বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যাঁরা দলীয় পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। তেমনই একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন ফরিদপুরের কৃতি সন্তান, প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমান। বৃহত্তর ফরিদপুর, বিশেষ করে সালথা-নগরকান্দার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আস্থা, সততা ও জনসেবার অনন্য প্রতীক।
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত উজ্জ্বল ও স্মরণীয়। পরবর্তীকালে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির মহাসচিব, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের প্রশ্নে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন তাঁর সর্বজনীন জনপ্রিয়তার সাক্ষ্য বহন করে।
রাজনীতিতে তাঁর ব্যক্তিগত সততা, বিনয় এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণ তাঁকে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছিল। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও বিরোধী দলের অনেকেই তাঁকে একজন সজ্জন ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করতেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন—রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি জনগণ, আর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি মানুষের ভোটাধিকার ও অংশগ্রহণ।
প্রয়াত এই নেতার রাজনৈতিক আদর্শ ও জনকল্যাণমূলক চিন্তার উত্তরাধিকার বহন করছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা, জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শামা ওবায়েদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ নির্বাচনী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, শক্তিশালী সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র ও গণমুখী রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
সালথা-নগরকান্দার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, এই অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে ভবিষ্যতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন শামা ওবায়েদ। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেও গভীর বিশ্বাস রয়েছে যে, যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বে একটি গণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
রাজনীতি মূলত মানুষের কল্যাণের জন্য—এই বিশ্বাসই কে এম ওবায়দুর রহমানের জীবনের মূল শিক্ষা। ক্ষমতা নয়, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই চিরন্তন আদর্শ ধারণ করেই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব দেশ ও জনগণের কল্যাণে এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর হাজারও অনুসারী ও সাধারণ মানুষের।
প্রয়াত এই জননেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। দেশের রাজনীতিতে সততা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনসেবার যে প্রদীপ্ত আদর্শ তিনি জ্বালিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।