নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পৌর এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক স্কুলছাত্রীকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে নেত্রকোণা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। উদ্ধার হওয়া চাঁদনী আক্তার (১১) পৌর এলাকার উত্তর দৌলতপুরের কামাল মিয়ার মেয়ে এবং দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ই জুলাই সোমবার বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় চাঁদনী বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে যায়। পরিবারের দাবি, এ সময় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে, সোমবার রাতে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকাগামী ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে চাঁদনীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেত্রকোণা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আজ ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনার বিষয়ে পুলিশ খুব বিচক্ষণতার সাথে তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত ও আইনি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কীভাবে শিক্ষার্থীটি ট্রেনে পৌঁছাল এবং অচেতন হওয়ার কারণ কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকসহ সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেকোনো মূল্যেই হোক সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।