বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ ও আন্তর্জাতিক ভিসা জালিয়াতি চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের গোপন আস্তানা থেকে দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট, নিখুঁতভাবে তৈরি ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসা, জাল অফার লেটার, বিমান টিকিট এবং ভিএফএস গ্লোবাল-এর খামসহ বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে রংপুর নগরীর তাজহাট থানাধীন কলেজপাড়া এলাকার সিডিটি হাউজিং সোসাইটির একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই তাজহাট থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— রংপুর মহানগরের হাজিরহাট এলাকার রুহানুর রহমান (২৩), নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর এলাকার শফিক ইসলাম (৩১) এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ঘোনপাড়া বেলতলী বাজার এলাকার হিমেল ইসলাম (২২)।
ভিএফএস গ্লোবালের খামে জালিয়াতি: ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে চক্রটির আস্তানা থেকে ১০টি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়, যেগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসা সংযুক্ত ছিল। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে দুটি জাল অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট, প্রায় ৩০ সেট ভুয়া চাকরির অফার লেটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ভিসা প্রসেসিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন জাল নথি ও অর্থ আদায়ের রশিদ। সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস জাগাতে চক্রটি আন্তর্জাতিক ভিসা আবেদন কেন্দ্র ‘ভিএফএস গ্লোবাল’-এর লোগোযুক্ত আসল খাম ব্যবহার করত।
সেজেছিল অস্ট্রেলিয়ার কোস্টা গ্রুপের ডিরেক্টর: অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয় অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘কোস্টা গ্রুপ’-এর ডিরেক্টর অ্যাডমিন পরিচয়ে তৈরি একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠানটির নাম ও লোগো সংবলিত দুটি প্যানাফ্লেক্স ব্যানার, একটি স্টেইনলেস স্টিলের টেবিল নেমপ্লেট এবং চারটি নেম ট্যাগ। মূলত এই অফিসিয়াল সেটআপ দেখিয়েই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের ফাঁদে ফেলত তারা।
দীর্ঘদিন ধরে চলছিল প্রতারণা:
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যুবকদের অস্ট্রেলিয়ার কোস্টা গ্রুপে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে আসছিলেন।” তিনি সাধারণ মানুষকে যেকোনো দেশের ভিসার আবেদন করার আগে সরকারিভাবে যাচাই-বাছাই করার এবং এই ধরনের আন্ডারগ্রাউন্ড চক্রের হাত থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।