জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো দেশে আবারো একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। তবে এই দেশের মানুষ কোনোভাবেই একদলীয় শাসন মেনে নেবে না। সরকার নিজেদের ভুল নীতি পরিহার করে দ্রুত জনকল্যাণমূলক ও জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর ঈদগাহে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
একদলীয় শাসনের চেষ্টা ও অঘটনের খতিয়ান: জামায়াতের আমির বলেন, ‘ইতিমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত ভিসিদের বসিয়ে দেওয়া এবং জেলা পরিষদের মতো জায়গায় নিজের ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হয়েছে।’
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে কড়া সমালোচনা: আওয়ামী লীগের অতীত মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অর্ধবছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেন নাই। বিরোধী দলকে সবচেয়ে বেশি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত আওয়ামী লীগ। এখন বিএনপিও ওই পুরোনো আওয়ামী লীগ যা বলত, তাদের কথাগুলো জপা শুরু করেছে; যে কথাগুলো বলতে বলতে আওয়ামী লীগ গিয়ে পড়েছে দিল্লিতে। আপনারাও জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন?”
চাঁদাবাজি, ঘুষ ও বাজেট নিয়ে খোঁচা: বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিগত সাড়ে ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, বর্তমান সরকারের সেই পথে হাঁটা উচিত হবে না। বিএনপি সরকার গঠনের আগে ও পরে দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা চাঁদাবাজকেও আইনের আওতায় আনতে পারেন নাই। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই; বরং মিটার আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি সর্ব মন্ত্রী। সব मंत्रालয়ে তিনি আজান দেন, একামতও দেন এবং মাঝে মাঝে সংসদে ফতোয়াও দেন। তিনি বলেছিলেন—”নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায়, এ জন্য বলেছিলাম।” লজ্জা! একটি সংগঠনের শীর্ষ জায়গায় থেকে যদি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে কেন?’
নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ও মেয়র প্রার্থী ঘোষণা:
নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ত্বকীর পরিবার এখনো হত্যার বিচার পায়নি এবং এখানে সাত খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়ে লাশের সারি উপহার দেওয়া হয়েছিল। ‘খেলা হবে’ হুংকার দেওয়া নেতারা এখন কোন মাঠে খেলছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ভালো নেই, চাঁদাবাজ-দখলদাররা হাটবাজার ও মহালগুলো হাতবদল করেছে।
সম্মেলন থেকে তিনি অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান। একই সাথে আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারকে জামায়াতে ইসলামীর চূড়ান্ত মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।