সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের উত্তর পাশ কেটে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাঠ রক্ষায় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটির মধ্যে অনেকটা নীরবে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর পাশে প্রায় আড়াই ফুট প্রশস্ত ও ১০০ থেকে ১৫০ মিটার দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের দেয়াল ঘেঁষে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপরও মাঠের উত্তর পাশ দিয়ে নতুন করে ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, বিদ্যমান ড্রেন থাকা সত্ত্বেও নতুন করে মাঠের জায়গা ব্যবহার করে ড্রেন নির্মাণের যৌক্তিকতা কী? এ বিষয়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়েও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক বৈঠক করেন। এ সময় তাঁরা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ রক্ষার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করছে এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কোনোভাবেই মাঠ সংকুচিত হতে দেওয়া হবে না।
তাঁরা আরও জানান, অবিলম্বে ড্রেন নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। মাঠে আর এক কোদাল মাটিও কাটা হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে তাঁর কার্যালয়ে যেতে বলেন।
অন্যদিকে, বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেরিনা দেবনাথের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মনসুর আহমদ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না এবং আগে ড্রেন নির্মিত থাকার পরও খেলার মাঠের উত্তর পাশ দিয়ে নতুন ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “আপনি কি চান কাজ বন্ধ করে দেই?”
ইউএনওর বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠের জায়গা ব্যবহার করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমোদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মাঠের জায়গা কমিয়ে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয়তা, বিকল্প ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ড্রেন নির্মাণকাজের অনুমোদন ও পরিকল্পনা প্রকাশ, বিদ্যমান ড্রেনের কার্যকারিতা যাচাই এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাঠের জায়গায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।