কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও তাড়াইল সদর বাজার ঘুরেও গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। এতে রান্নার কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্যাসের দোকান ঘুরে কোনো সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রতিবেদক শহিদুল হক। এ ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। জিএমআই গ্যাসের এক ডিলার জানান, মালিকানা পরিবর্তনের কারণে তাঁদের কোম্পানির কার্যক্রম ও সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ফ্রেশ, ইউনিক ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি গ্যাসের সরবরাহেও সংকটের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ব্র্যান্ড ও সিলিন্ডারের ধরনভেদে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বলা হচ্ছে। কিন্তু ২ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন প্রতিবেদক।
তবে এসব দামের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই এবং নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন।
এলপিজি গ্যাস না পেয়ে তাড়াইল উপজেলার অনেক পরিবার ইলেকট্রিক চুলা ও মাটির চুলায় রান্নার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এ সংকট চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পারিবারিক ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, তাড়াইলের বাজারগুলোতে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার ঘটনা ঘটছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কালান্তর নিউজ