যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর বাজারে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল প্রাচীন বটগাছ। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি স্থানীয় মানুষের কাছে ‘বটগাছের গেইট’ বা প্রকৃতির গেইট নামে পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই ব্যতিক্রমী গঠন এলাকাবাসীর কাছে যেমন কৌতূহলের বিষয়, তেমনি এটি স্থানীয় ঐতিহ্যেরও একটি অংশ।
বটগাছটির সঠিক বয়স ও রোপণের সময় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য লিখিত দলিল পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় মানুষের ধারণা, গাছটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষ যেন এলাকার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক নীরব সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বটগাছটির ডালপালা বিস্তৃত হয়েছে চারদিকে। এর ঝুলন্ত ঝুরি মাটিতে নেমে শিকড় গেড়ে গাছটির চারপাশে তৈরি করেছে এক ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক কাঠামো। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন তৈরি করেছে একটি বিশাল তোরণ। এই অনন্য গঠনই গাছটিকে অন্য সাধারণ বটবৃক্ষ থেকে আলাদা করেছে।
জহুরপুর বাজারের এই বটগাছ শুধু একটি প্রাচীন বৃক্ষ নয়, এটি স্থানীয় মানুষের পরিচিত মিলনস্থলও। গাছের শীতল ছায়ায় পথচারীরা বিশ্রাম নেন, স্থানীয়রা গল্পে মেতে ওঠেন এবং বিভিন্ন সময়ে ছোটখাটো সামাজিক আড্ডা বসে।
প্রকৃতি ও মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের প্রতীক হয়ে ওঠা এই বটবৃক্ষ বাঘারপাড়া তথা যশোরের একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রকৃতির এই অনন্য নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখতে গাছটির গোড়া ও ঝুরির সুরক্ষা, আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং নির্বিচারে ডালপালা কাটার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে সচেতনতা জরুরি। পাশাপাশি গাছটির প্রকৃত বয়স ও ইতিহাস অনুসন্ধানে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট ভূমি নথি এবং ঐতিহাসিক তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।
জহুরপুরের এই প্রাচীন বটগাছ প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও হয়ে উঠতে পারে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মূল্যবান স্মারক।
কালান্তর নিউজ