কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বালু লোড-আনলোড নিয়ে বিরোধের জেরে কাজী মো. ইউসুফ হোসেন (৪০) নামে এক জামায়াত কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
নিহত ইউসুফ উপজেলার কনকাপৈত বাজারসংলগ্ন কনকাপৈত দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় ব্যাংকার কাজী একরামের ছোট ভাই। জীবিকার তাগিদে সম্প্রতি মোটরসাইকেল রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার দুই থেকে তিন দিন আগে কনকাপৈত স্কুল মাঠে বালু লোড-আনলোড নিয়ে বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজার এলাকার ফারিহা এন্টারপ্রাইজের এক ট্রাক্টর চালকের সঙ্গে ইউসুফের বাকবিতণ্ডা হয়।
এ ঘটনার জেরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবুল কালাম আজাদ তাঁকে আমজাদের বাজার এলাকায় যেতে নিষেধ করে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার সকালে ইউসুফ আমজাদের বাজার এলাকায় পৌঁছালে আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা চালান।
এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাঁকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন জানান, ইউসুফ তাঁদের সংগঠনের একজন কর্মী ছিলেন এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ব্যক্তিগত ও স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটেছে; এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী জানান, ইউসুফকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে কুমিল্লায় রেফার করা হয়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান, বালু লোড-আনলোড নিয়ে বিরোধ ও হামলার অভিযোগ পুলিশ তদন্ত করছে। তবে ইউসুফের মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকেও হয়ে থাকতে পারে বলে একটি তথ্য পাওয়া গেছে।
ওসি আরও জানান, মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।