যশোরের অভয়নগরে অবস্থিত প্রাচীন স্থাপনা এগারো শিব মন্দির
বাংলাদেশের যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে ভৈরব নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা ১১ শিব মন্দির, যা স্থানীয়ভাবে ‘এগারো শিব মন্দির’ নামেও পরিচিত। প্রাচীন স্থাপত্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে মন্দিরগুলো এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, রাজা প্রতাপাদিত্যের বংশধর রাজা নীলকণ্ঠ রায় ১৭৪৫ থেকে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মন্দিরগুলো নির্মাণ করেন। রাজা নীলকণ্ঠ রায়ের বিধবা কন্যা অভয়ার পূজা-অর্চনার উদ্দেশ্যে এসব মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অনেকের মতে, অভয়া দেবীর নাম থেকেই অভয়নগর নামের উৎপত্তি।
মন্দির প্রাঙ্গণে একসময় ১১টি প্রধান মন্দির এবং ১০টি অপ্রধান মন্দিরসহ মোট ২১টি মন্দিরের কাঠামো ছিল বলে জানা যায়। এসব স্থাপনা তৎকালীন ধর্মীয় আচার, স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণকৌশলের পরিচয় বহন করে।
প্রধান শিব মন্দিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২২ ফুট ৩ ইঞ্চি। এর দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি। স্থাপনার এসব বৈশিষ্ট্য প্রাচীনকালের নির্মাণশৈলী সম্পর্কে ধারণা দেয়।
জনশ্রুতি ও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মন্দিরগুলোর প্রতিটিতে একটি করে কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ ছিল। পরবর্তী সময়ে সেগুলো চুরি হয়ে যায় বলে জানা যায়। ফলে মন্দিরগুলোর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এগারো শিব মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি যশোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং ঐতিহাসিক তথ্যের নির্ভরযোগ্য নথিভুক্তকরণের মাধ্যমে এ স্থাপনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা সম্ভব।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে মন্দিরগুলোর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে স্থানটি ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় ঐতিহ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।