খুলনার ডুমুরিয়ায় গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে তিনটি জবাই করা ঘোড়া, প্রায় ৪ মণ মাংস এবং একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আনিচুর রহমান পলাশ (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের একটি কথিত খামারে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়। জীবিত ঘোড়াটি স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে র্যাব-৬-এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালান।
এ সময় খামারের টিনশেড ঘরে তল্লাশি করে পলিথিনে মোড়ানো প্রায় ১৬০ কেজি মাংস পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে যায়।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। প্রাণিকল্যাণ আইনের ১৬ ধারায় পলাশকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘ সাত থেকে আট মাস ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে রোগাক্রান্ত ও অক্ষম ঘোড়া কিনে খামারে জড়ো করা হতো।
পরে গভীর রাতে সেগুলো জবাই করে মাংস গরু বা খাসির মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেল ও বাজারে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্বাস্থ্যকর ও রোগাক্রান্ত ঘোড়ার মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা সরদার আবদুল মালেক এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পলাতক সহযোগীদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জনসচেতনতায়: অপরিচিত উৎস থেকে অস্বাভাবিক কম দামে মাংস কেনা এড়িয়ে চলুন। মাংসের উৎস নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা প্রশাসনকে জানান।
কালান্তর নিউজ | জনস্বার্থে সত্যের সন্ধানে