বহুল আলোচিত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী মানিক পশারীর মৃত্যু ও দাফন নিয়ে সৃষ্ট নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কেটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অবশেষে তার দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (অফিসিয়াল সময় অনুযায়ী) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মানিক পশারী। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় আত্মগোপনে বা আশ্রয়ে ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা। সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। পরে নিরাপত্তার কারণে পুলিশ পাহারায় মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গোপন ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় বলে প্রশাসন জানায়।
এদিকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, মানিক পশারী ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ ছিলেন এবং তাকে পিরোজপুরের মাটিতে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার ও দাফন করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বারবার বাধার অভিযোগ তোলা হয়।
দিনভর টানটান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর প্রশাসনের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত পিরোজপুরের নিজ বাড়িতে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন করার জন্য কবর খোঁড়ার কাজ চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনেরা।