চীনা প্রতিষ্ঠানের চার প্রস্তাব বেবিচকে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি নির্মাণ সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ তিন দশক ধরে স্থবির হয়ে থাকা খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাগেরহাটের রামপালের ফয়লা এলাকায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)।
গত ২৫ জুলাই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর ৩০ জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চারটি সম্ভাব্য অর্থায়ন ও নির্মাণ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর বা নির্মাণকাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়নি।
১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাগেরহাটের রামপালের ফয়লা এলাকায় খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর জমি অধিগ্রহণ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও আংশিক ভূমি ভরাটের কাজ হলেও পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণ আর এগোয়নি।
পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অর্থায়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন জটিলতায় কাজ থমকে যায়। ফলে খুলনা, বাগেরহাট ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের জন্য এখনো বিকল্প বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।
সিএমসি বিমানবন্দর নির্মাণে চারটি সম্ভাব্য পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলো হলো:
১. সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে সহজ শর্তে ঋণ।
২. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি)।
৩. নির্মাণ, পরিচালনা ও নির্ধারিত মেয়াদ শেষে হস্তান্তর (বিওটি)।
৪. নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, নির্মাণ ও অর্থায়নসহ সমন্বিত মডেল।
প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। এখন বেবিচক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর প্রকল্পটির অগ্রগতি নির্ভর করছে।
খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দরটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড, শিল্পাঞ্চল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সঙ্গে বিমান যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এসব সুবিধা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে বিমানবন্দরের সক্ষমতা, যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর।
চীনা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ প্রকল্পটিকে নতুন করে আলোচনায় আনলেও নির্মাণ শুরুর আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ, অর্থায়নের শর্ত চূড়ান্ত করা, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা খুলনা অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, এবার যেন প্রকল্পটি বাস্তব অগ্রগতির মুখ দেখে। তাঁদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিমান যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
কালান্তর নিউজ