রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
পরীক্ষা শুরুর মাত্র দুই মিনিট আগে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কার বিষয়টি আগে থেকে জানাজানি হলেও কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত পরীক্ষার্থী হাতে প্রবেশপত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান করছেন।
তাঁদের মধ্যে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় এসেছেন। বিক্ষোভের কারণে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
গত ১০ অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে এ পরীক্ষায় তিন লাখের বেশি প্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক দুই মিনিট আগে ওএমআর শিট বিতরণের পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নের আংশিক মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার আগের রাত থেকেই ফেসবুকে একটি চক্র ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহের দাবি করে পোস্ট দিয়েছিল।
তাঁদের দাবি, এমন অভিযোগ সামনে আসার পরও যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসে।
এর প্রতিবাদে মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, শাপলা চত্বর, মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নীলক্ষেত মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়।
বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। একজন পরীক্ষার্থীর বক্তব্য, “সাধারণ পাবলিকের যাওয়ার কোথাও রাস্তা নাই… টোটোতে যাওয়ার রাস্তা নাই।” তাঁর এই বক্তব্যে অবরোধের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া পরীক্ষাটি পরবর্তী সময়ে ১৬ অক্টোবর শুক্রবার পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে ৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ পুরোপুরি কাটেনি। তাঁদের দাবি, পরীক্ষা দিতে না পেরে দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসার কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার উপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কালান্তর নিউজ