আগামী ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দাকোপ-মোংলা-সুন্দরবন সফরকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় খুলনায় নেমেছে তৎপরতার জোয়ার। যে দিগরাজ-মোংলা সড়ক গত ২ বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে ছিল, সেই সড়কে এখন দিনরাত চলছে সংস্কার কাজ। দাকোপের ভেতরের রাস্তা, ফেরিঘাটে রং করা, আর নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ — সবই শেষ হয়েছে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা গেছে—
১. প্রথম ছবিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) গাড়ি দিয়ে দিগরাজ-মোংলা সড়কের পিচ গলানোর কাজ চলছে, পাশে কালো ধোঁয়া।
২. দ্বিতীয় ছবিতে মোংলা-দাকোপ ফেরিঘাটের পিলারে তড়িঘড়ি করে লাল-হলুদ-কালো রং করা হচ্ছে।
৩. তৃতীয় ছবিতে রোলার মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে দিগরাজ সড়কের গর্ত ভরাট করা হচ্ছে।
৪. চতুর্থ ছবিতে নলিয়ান স্কুল মাঠের হেলিপ্যাডে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের মহড়া।
কিন্তু এই উন্নয়ন কতটা স্থায়ী?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুলের শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে। বছরের পর বছর আবেদন করেও এতদিন তা সংস্কার করা হয়নি। দাকোপের এক অটোচালক আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ভোগান্তির কথা বললে ফান্ড নেই বলে। আর প্রধানমন্ত্রী আসবেন শুনে ৩ দিনে রাস্তা নতুন!” এটাই এখন জনগণের মনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে — উন্নয়ন কি সাধারণ মানুষের জন্য, না কি শুধু ভিআইপি সফরের জন্য?
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসারের সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ, সাড়ে ১০টায় নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ এবং এরপর বানৌজা মোংলা হয়ে মোংলা বন্দরের জেটি ও বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে নলিয়ান স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ ও এসএসএফের পরিদর্শনও সম্পন্ন হয়েছে। দাকোপের ইউএনও মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ও যাতায়াত সমন্বয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেছেন, সফর নির্বিঘ্ন করতে যাবতীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল:
১. দিগরাজ-মোংলা সড়কের যে অংশে এখন কাজ চলছে, সেটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বাজেটের কাজ হলেও টেন্ডার হয়েছিল ৬ মাস আগে। অথচ কাজ শুরু হলো সফরের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে।
২. দাকোপের ভেতরের রাস্তাগুলো এলজিইডির আওতাধীন হলেও তা জরুরি ভিত্তিতে সওজের বাজেটে পিচ ঢালাই করা হচ্ছে।
৩. নলিয়ান স্কুল মাঠে হেলিপ্যাডের জন্য ইট-বালু ফেলায় মাঠের খেলাধুলার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি সম্পূর্ণ সরকারি; স্থানীয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু উপকূলীয় এলাকায় আসছেন, তিনি যেন শুধু প্রশাসনের সাজানো রাস্তাঘাট না দেখে—বছরের পর বছর ধরে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং এই ভাঙা রাস্তায় মানুষের প্রতিদিনের চরম দুর্ভোগ উপলব্ধি করেন। তবেই এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে উপকূলবাসীর টেকসই উন্নয়নের স্থায়ী বার্তা হয়ে থাকবে।