নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ওয়ারিশ সনদে নামের বিকৃতি, জমি আত্মসাৎ ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠেছে দৈনিক ইত্তেফাকের সোনারগাঁও উপজেলা সংবাদদাতা অসিত কুমার দাসকে ঘিরে।
অভিযোগকারী তাপস কুমার দাসের দাবি, তাঁর প্রয়াত পিতা রনপতি কুমার দাসের নাম পরিবর্তন করে ‘রজপতি কুমার দাস’ উল্লেখ করে সোনারগাঁও পৌরসভা থেকে দুটি ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব সনদের মাধ্যমে প্রায় ২০ শতাংশ জমি আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তিনি।
তাপস কুমার দাসের দাবি, এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের অগ্রগতি এবং জমির মালিকানা নিয়ে কোনো আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীর সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশনস লিমিটেডের স্মারক নম্বর ২৭৩/২৬-এ অসিত কুমার দাসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
আদেশটিতে সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও কার্যনির্বাহী পরিচালক মুহিবুল আহসানের স্বাক্ষর থাকার দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক ঘোষণা পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অফিস আদেশের সত্যতা এবং অসিত কুমার দাসের বর্তমান কর্মপরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিযোগকারী কয়েকটি ভারতীয় নথির অনুলিপি সরবরাহ করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, এসব নথিতে অজিত কুমার দাস, আশিত বা অসিত কুমার দাস, সিলা দাস ও দুর্গা রানী দাসের নাম এবং কলকাতার ঠিকানা রয়েছে।
নথিগুলোর মধ্যে ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, আবাসিক সনদ ও ব্যাংকসংক্রান্ত কাগজপত্রের উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, নথিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে বাংলাদেশের অসিত কুমার দাসের পরিচয়গত সম্পর্ক রয়েছে। তবে নথিগুলোর সত্যতা, ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের বর্তমান নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শুধু ভারতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যাংক নথি থাকার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্ব কিংবা বাংলাদেশের সম্পত্তির মালিকানা বেআইনি বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রযোজ্য আইন যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগে অসিত কুমার দাসের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়ম, ঋণ পরিশোধ না করা, জমি আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারী।
তাঁর দাবি, ভারতে ‘বঙ্গ টিভি’ চালুর উদ্দেশ্যে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া থেকে প্রায় চার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ঋণ পরিশোধসংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং আদালতের আদেশ থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব দাবির পক্ষে ব্যাংকের প্রত্যয়িত নথি, মামলার নম্বর, আদালতের আদেশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
অভিযোগকারী ওয়ারিশ সনদ, জমির দলিল, নাগরিকত্ব এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও পৌরসভা, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে।
অসিত কুমার দাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।