দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ হয়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ী শেখ সাহেদ আহমদ। তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় ব্যবসায়িক অংশীদার ইমন আহমদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা।
তাঁদের আশঙ্কা, সাহেদ অপহরণ বা হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের হাড়িয়ারগাঁও গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে সাহেদের সন্ধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাহেদের ভাই শেখ রাসেল। এ সময় বাহরাইনপ্রবাসী আরেক ভাই জাহেদ আহমদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় সাহেদ আহমদের সঙ্গে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের করচা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে ইমন আহমদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার অংশীদারত্বের ব্যবসা রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত থেকে সাহেদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, ওই রাতেই সাহেদের ব্যবসায়িক অংশীদার ও একই কক্ষে বসবাসকারী ইমন আহমদ বাংলাদেশে থাকা শেখ রাসেল এবং বাহরাইনপ্রবাসী জাহেদ আহমদকে ফোন করে জানান, সাহেদ রাতে বাসায় ফেরেননি। পরদিন ১ অক্টোবর ইমন দাবি করেন, সাহেদের কাছে তাঁর ১২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, সাহেদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইমন বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রথমে পাসপোর্ট নিয়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে পাসপোর্ট ও পারমিটের পাশাপাশি দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে সাহেদের চলে যাওয়ার তারিখ সম্পর্কে এক ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দায়ের করা অভিযোগে ভিন্ন তারিখ উল্লেখ রয়েছে বলে তাঁদের দাবি। ব্যবসার মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
স্বজনদের আশঙ্কা, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে সাহেদের সঙ্গে গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাঁরা তাঁর সন্ধান নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশি দূতাবাস এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, সাহেদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে তাঁর সন্ধান পেতে সহযোগিতার আবেদন জানান তাঁরা।