একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে, বিচারের দাবিতে মিছিল হয়। তারপর সময় গড়ায়, আলোচনা থেমে যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের জীবনে সেই ক্ষত থেকে যায় আজীবন
১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৬ সালে সিলেটে খাদিজা আক্তারের ওপর বর্বর হামলা, কুমিল্লায় তনু হত্যাকাণ্ড এবং নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নারী নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো আমাদের বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এমসি কলেজে স্বামীর সামনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাও দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছিল।
প্রশ্ন একটাই, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে এত দীর্ঘ অপেক্ষা কেন?
ধর্ষণের ঘটনায় শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়াই ভয়াবহ নয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে নানা সামাজিক বাধার মুখেও পড়তে হয়। কখনো তাঁর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কখনো চরিত্র নিয়ে কটূক্তি করা হয়, আবার কখনো প্রভাবশালীদের চাপে আপসের চেষ্টা চলে।
অথচ ধর্ষণের দায় কোনোভাবেই ভুক্তভোগীর নয়। দায় অপরাধীর, আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ধর্ষণের বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, তদন্তের দুর্বলতা, সাক্ষীর নিরাপত্তাহীনতা এবং অপরাধীর প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকলে মানুষের আইনের প্রতি আস্থা কমে যায়।
শুধু প্রতিবাদ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা।
🔹 ধর্ষণের প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত।
🔹 প্রভাবমুক্ত বিচারপ্রক্রিয়া এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
🔹 ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
🔹 ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করা ও হয়রানি বন্ধ করা।
🔹 রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ছাড়াই আইনের সমান প্রয়োগ।
ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জরুরি। তবে শাস্তি হতে হবে আইনসম্মত, প্রমাণভিত্তিক এবং ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হলে তাঁকে লজ্জা ও অপমানের বোঝা বইতে হবে না; বরং অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
আর কত নারী নির্যাতনের শিকার হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে? আর কত পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকবে?