আমরা শুনেছিলাম, তারা নাকি জামায়াত নেতাদের হত্যা করতে এসেছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দেখা গেল, রাজনৈতিক টার্গেটের কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেত্রীর জীবনে নেমে এসেছিল একের পর এক কঠিন সময়। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যান, বড় ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে।
কারাবন্দি অবস্থায় তার চিকিৎসা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিএনপি ও তার চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। ২০২০ সালে মানবিক কারণে তার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে সে সময় বিদেশে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।
পরবর্তীতে তার চিকিৎসা নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস তাকে কারাগারে ‘স্লো পয়জনিং’-এর শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। ২০২৬ সালেও তার চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ এবং একটি ওষুধের প্রভাবে তার লিভারের অবস্থার অবনতি হওয়ার অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি তার প্রতি সমর্থকদের আবেগ ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।
রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকবে, থাকবে তীব্র বিরোধিতাও। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার বিচার হওয়া উচিত আইনের স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায়। একইভাবে, যারা গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের ক্ষেত্রেও আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ যেন প্রতিহিংসা নয়, বরং জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকারকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায়, এটাই প্রত্যাশা।