রাজধানীর মিরপুর-১ এর শাহআলী থানা এলাকায় মধ্যরাতে তাণ্ডব চালিয়ে ১৯৭৪ সাল থেকে পরিচালিত ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ নামক একটি জনকল্যাণমূলক ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে (রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত) প্রায় ২৫০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী ক্লিনিকের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিকট শব্দে এই তাণ্ডব চললেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোনো বাধা না দেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলার পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ইপিআই (EPI) টিকার ফ্রিজ, সংরক্ষিত সরকারি টিকা, টিকা প্রদানের অফিসিয়াল রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, এসি ও নগদ টাকা। ভাঙচুর ও লুটের পর উক্ত জমি দখল করে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি’ নামের একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শাহআলী থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। প্রথমে উৎসুক জনতা দেখার দাবি করলেও পরে ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করা হয়। পরবর্তীতে ডিএমপি কমিশনার নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “এটি অল্প সময়ের কাজ নয়, অনেক সময় নিয়ে ভাঙা হয়েছে।” ঘটনায় গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি।
সর্বশেষ আপডেট:
এই হামলার ঘটনায় জড়িত সোহেল, জুয়েল, জিহাদ ও রাবিব নামে ৪ জন ভাড়াটে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে হামলার মূল অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।