ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীর টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতের সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে দুই দফা সালিশও হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তার টিপসই নেন আবদুস ছাত্তার। পরে ওই টিপসই ব্যবহার করে তার নামে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।
প্রায় ১৩ বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের জমিতে কাজ করে তিনি দুই ছেলেকে বড় করেন এবং তাদের বিয়ে দেন। বর্তমানে তার নাতি-নাতনিও রয়েছে।
বুধবার ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, “আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি। কোনো কাজিকেও দেখিনি।”
অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার একটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে তিনি কোনো টিপসই নেননি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আবদুস ছাত্তার জামায়াতের কোনো পদধারী নেতা নন। গত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপি করতেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলেও মনে হচ্ছে।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কুদ্দুস এর আগে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তিনি কখনো এতে রাজি হননি। কুদ্দুসের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে।
বাড়িতে কুদ্দুসকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কিছু জানাননি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কুদ্দুস দাবি করেন, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি কারও কথা শোনেননি।
কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। তবে সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি ওই বিয়ের কোনো সাক্ষী হননি।
কাজি গোলাম মোস্তফাও বিয়েটি সম্পন্ন করার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ছড়িয়ে পড়া কাগজটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালেও এমন একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবারও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে গত সোমবার ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সালিশে আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তাদের শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী।
তিনি বলেন, “কীভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।”
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন তারা। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।