বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজসমূহের দেশীয় প্রযুক্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের সক্ষমতা বাড়াতে মোংলায় ‘শিপ ডকিং অ্যান্ড রিপেয়ার ফ্যাসিলিটি (মোংলা স্লীপওয়ে)’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৪ জুন) বানৌজা মোংলায় আয়োজিত এক গৌরবোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এই অত্যাধুনিক প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন।
এই অত্যাধুনিক স্লীপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজসমূহের ডকিং, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক মেরামত কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, কার্যকর এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী করে তোলা।
কমে আসবে বিদেশি নির্ভরতা, বাড়বে আত্মনির্ভরশীলতা: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই নতুন ফ্যাসিলিটি চালু হলে ডকিং ও মেরামতের জন্য বিদেশি বা বেসরকারি ডকইয়ার্ডের ওপর নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এর ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজগুলোর সার্বক্ষণিক অপারেশনাল প্রস্তুতি (Operational Readiness) বজায় রাখা অনেক সহজতর হবে। এই উদ্যোগটি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, স্বনির্ভরতা অর্জন ও নিজস্ব প্রযুক্তির বিকাশে একটি মাইলফলক পদক্ষেপ।
সামুদ্রিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব: এই স্লীপওয়ে চালুর ফলে নৌবাহিনীর নিজস্ব কারিগরি জনবলের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্প দেশের সার্বিক জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্পের (Shipbuilding and Repair Industry) বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। এটি কেবল নৌবাহিনীর জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও ব্লু-ইকোনমির অন্যান্য সামুদ্রিক কার্যক্রমের জন্যও একটি সহায়ক বৈপ্লবিক অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে।
দ্রুত মেরামতের আন্তর্জাতিক মানের এই সুযোগ তৈরি হওয়ায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো বছরের অধিকাংশ সময় সর্বোচ্চ অপারেশনাল অবস্থায় দেশের জলসীমা পাহারায় নিয়োজিত থাকতে পারবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।