আর মাত্র ১১ দিন। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। এরই মধ্যে খুলনার ডুমুরিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
তবে এবার ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে আলোচনায় এসেছে খরসংগ মিকশিমিল সাহাপাড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ।
পূজার ৫২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার সেখানে তৈরি করা হচ্ছে ১৫২টি প্রতিমা। বড় পরিসরের এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের বাড়তি আমেজ।
মিকশিমিল সাহাপাড়া পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন খুলনা জেলার পাইকগাছার কাশিনগর গ্রামের প্রতিমাশিল্পী শিমুল দাশ (৪০)। তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন তালা গ্রামের শুভঙ্কর মন্ডল, তরুণ দাশ (১৯) ও গোপাল দাশ (১৭)।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, এবারের পূজার সার্বিক আয়োজনে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ৫২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৫২টি প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিকশিমিল সাহাপাড়ার প্রায় ১২০টি পরিবার এ পূজার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। ডুমুরিয়া থানা পুলিশ নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখা হয়েছে।
এদিকে মিকশিমিল এলাকার বিএনপি নেতা আলতাফ মাহমুদ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মিকশিমিল বাজার ও কালার বটতলায় পাশাপাশি দুটি বড় পূজার আয়োজন হচ্ছে। পূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্টদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার প্রতিটি দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করা হচ্ছে। পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। পূজা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
৫২ বছরের ঐতিহ্য, ১৫২ প্রতিমার ব্যতিক্রমী আয়োজন এবং বর্ণিল প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এবার মিকশিমিল সাহাপাড়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা।