কুড়িগ্রামে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, এ বছর কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, এটি অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির উৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম কাজ করবে। গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, এনএসআইয়ের উপপরিচালক আনিসুর রহমান ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির হোসেন।
সাংবাদিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল ও আরিফুল ইসলাম রিগ্যান।
বক্তারা বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ নীতিতে বিশ্বাস করে জেলার সর্বস্তরের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপনে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।