রাজধানী ঢাকার ফুটপাত দখল ও অবৈধ হকার বসানোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ পথচারীরা। ফুটপাত দখলের কারণে অনেক জায়গায় পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ।
তবে দৃশ্যমান এই সমস্যার আড়ালে রয়েছে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত অর্থ আদায় করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কথিত এই চাঁদাবাজি ব্যবস্থার কারণে অভিযান চালানোর পরও কিছুদিনের মধ্যে আবার একই জায়গায় হকার বসে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতে ব্যবসা করা অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার প্রতিদিন বা মাসিক ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও চক্রকে অর্থ দিতে বাধ্য হন। ফলে উচ্ছেদ অভিযান হলেও মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। এতে সরকারি অর্থ ও প্রশাসনিক সময় ব্যয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই হবে না। ফুটপাত দখলের সঙ্গে জড়িত কথিত চাঁদাবাজি ও অবৈধ পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও তদন্ত করে দেখতে হবে।
একই সঙ্গে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের হকারদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের জন্য পরিকল্পিত বাজার বা হকার জোন তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন তাদের জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব, অন্যদিকে পথচারীদের জন্য ফুটপাতও উন্মুক্ত রাখা যাবে।
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হলে কারা এর পেছনে অর্থ আদায় করছে, কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তা চিহ্নিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হকারদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন বা নির্দিষ্ট ব্যবসার স্থান নিশ্চিত করা হবে।
কারণ, শুধু ফুটপাত থেকে হকার সরিয়ে দেওয়া সমাধান নয়। ফুটপাত দখলের পেছনের অবৈধ অর্থের চক্র বন্ধ করাই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের প্রথম ধাপ।
আপনার এলাকায় ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির এমন কোনো অভিযোগ আছে কি? মতামত জানাতে পারেন।