ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার দোহার থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের মাইজহাটি (সুতি ভরট) গ্রামের মোছা. রোজিনা বেগমের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে উজ্জল মিয়ার রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মো. মোজাহিদ নামে ১৩ মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
মামলার এজাহারে রোজিনা বেগম অভিযোগ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকায় তার স্বামী উজ্জল মিয়াসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছে তার ১৩ মাস বয়সী ছেলে মোজাহিদকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন শিশুটির মা।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোজিনা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে ঢাকার দোহার থানাধীন চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডী এলাকায় শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে ৭ অক্টোবর ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মাইজহাটি গ্রামের মো. উজ্জল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী মোছা. আয়শা খাতুন (৪৫), উচাখিলা ঈশ্বরপুর গ্রামের মোছা. শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচন্ডী (চর মাহমুদপুর) গ্রামের মো. আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তার স্ত্রী মোছা. শিখা (৩৫)।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ৭ অক্টোবর ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬/৮ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, মামলা রুজুর পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ১৩ মাস বয়সী শিশু মোজাহিদকে ঢাকার দোহার থানার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে শিশুটিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি মামলার এজাহারে করা অভিযোগ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।