জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনি লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে ডিম নিক্ষেপ ও হট্টগোলের জেরে কয়েকজনকে আটক করেছে লন্ডন পুলিশ।
১. অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অনুষ্ঠান ও বিতর্ক:
গত ১৪ জুন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এবং অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির যৌথ সহযোগিতায় ‘দ্য স্টুডেন্ট লেড আপরাইজিং অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ পোস্ট-রিভল্যিউশনারি বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যতম বক্তা হিসেবে যোগ দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েম, সাবেক গুম কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস এবং যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আলিয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। একপক্ষ এটিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান দাবি করলেও অন্য পক্ষ তা অস্বীকার করে। এ বিষয়ে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বিবিসি বাংলাকে ই-মেইলে জানায়, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত নয়, তবে এর সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ও কর্মী। ১৪ জুনের অনুষ্ঠানটি মূলত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি’র সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরাই আয়োজন করেছিলেন।
২. অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ:
এই আয়োজনকে একপাক্ষিক দাবি করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল সমর্থক অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক সুশান্ত দাশ গুপ্ত জানান, বাংলাদেশে মবের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তারা এই বিক্ষোভ করেছেন এবং অনুষ্ঠানটি একপাক্ষিক হওয়ায় যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছেন। তবে অনুষ্ঠানের বক্তা নাবিলা ইদ্রিস জানান, বাইরে প্রতিবাদ হলেও ভেতরের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বিশ্লেষণধর্মী।
৩. হোয়াইটচ্যাপেলে ডিম নিক্ষেপ ও পুলিশি অ্যাকশন:
উত্তেজনার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত ১৫ জুন সোমবার লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায়। সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় হাসনাত আব্দুল্লাহর গণসংবর্ধনা ও দলীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ সেখানে উপস্থিত থাকাকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রেস্তোরাঁ ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লন্ডন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করে।
৪. দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য:
যুক্তরাজ্য এনসিপি-র সদস্য সচিব মো. এম এ হিমেল এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পতন ও তা নিষিদ্ধকরণে হাসনাত আব্দুল্লাহর অগ্রণী ভূমিকা থাকায় তারা লন্ডনে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের আইনে সহিংসতার ঠাঁই নেই, পুলিশ তাদের প্রতিহত করেছে এবং আমাদের সব কর্মসূচি সফল হয়েছে।” অপরদিকে, আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ যুক্তরাজ্যের যেখানেই যাবেন, সেখানেই তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
_সূত্র: বিবিসি