খুলনার দৌলতপুর ও দিঘলিয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভৈরব নদের ওপর সেতু। ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩১৭ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। ২০২৩ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও মূল সেতুর নির্মাণ অগ্রগতি মাত্র ২২ শতাংশ।
ফলে দুই পাড়ের লাখো মানুষকে এখনো ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে নগর ঘাট ফেরিঘাটে দেখা যায়, মাত্র পাঁচ মিনিটের নদীপথ পাড়ি দিতে যানবাহন ও যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ট্রাক, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে ঘাটে। একটি ফেরি দিয়ে পারাপার চলায় প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
এক ভ্যানচালক বলেন, ফেরিতে মালামাল নিয়ে নদী পার হতে অনেক সময় লাগে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে কেউ এলে দেরির কারণে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।
এক অটোচালক বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সেতুটি চালু হলে এ দুর্ভোগ আর থাকবে না।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নকশা পরিবর্তন ও জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে নির্মাণকাজে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নদীর ভেতরের অংশের ডিজাইন অনুমোদন না হওয়ায় ওপরের অংশের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডিজাইন অনুমোদন হলে দেড় বছরের মধ্যে সুপারস্ট্রাকচারের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তালিমুল হক বলেন, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা এবং ২০২৪ সালের পরিস্থিতির কারণে কাজ কিছুটা ধীর হয়ে যায়। তবে বর্তমানে কাজের গতি ভালো রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ডিজাইন পরিবর্তনের কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুর নির্মাণকাজ আবারও পুরোদমে শুরু হবে। এ সেতু এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের দাবি, আর বিলম্ব না করে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হোক। সেতুটি চালু হলে দৌলতপুর ও দিঘলিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরিনির্ভর যোগাযোগের অবসান ঘটার পাশাপাশি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে।