কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রসূতি নাজমা আক্তার গুরুতর অসুস্থ হয়ে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়ার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল রোডের আল-নূর হসপিটালের গাইনি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গর্ভধারণের পর থেকে নাজমা আক্তার ওই হাসপাতালের আরেক গাইনি চিকিৎসক ডা. আফরোজা হাশেম নুপুরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং গর্ভের পানির সমস্যা রয়েছে বলে জানানো হয়। এ সময় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
তবে পরিবারের অভিযোগ, ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসবের বিষয়ে আশ্বস্ত করে সিজার না করার পরামর্শ দেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার গভীর রাতে নাজমার প্রসববেদনা শুরু হলে ডা. কেয়ার পরামর্শে ভোররাতে তাকে আল-নূর হসপিটালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসক হাসপাতালে আসেন বেলা ১১টার পর। এরপর দীর্ঘ সময় নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে দুপুর আড়াইটার দিকে নবজাতকের মাথায় গুরুতর আঘাত ও রক্তাক্ত জখম হয়। পরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাহিদা সুলতানাকে ডেকে আনা হলে তিনি দ্রুত আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে পরিবারের দাবি।
এরপরও নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয় এবং একপর্যায়ে নবজাতক জরায়ুমুখে আটকে মারা যায় বলে অভিযোগ পরিবারের। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লার ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশনের মাধ্যমে মৃত নবজাতক প্রসব করানো হয়।
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রসূতির স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে কটাক্ষ করেন এবং রোগী দেখার ক্ষেত্রে নিজের কিছু শর্তের কথাও উল্লেখ করেন।
যোগাযোগ করা হলে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া তার ফেসবুক পোস্টের সত্যতা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কারও চিকিৎসাগত অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।