শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে উপকূলীয় বাগেরহাটের মোংলায় মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
মোংলা উপজেলা ও পৌরসভা মিলিয়ে এবার ৩৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। কোথাও মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে প্রতিমার সূক্ষ্ম কারুকাজ। এরপরই শুরু হবে রং ও তুলির কাজ।
মোংলা পৌর এলাকায় চারটি, চাঁদপাই ইউনিয়নে চারটি, বুড়িরডাঙ্গায় ১০টি, সোনাইলতলায় চারটি, মিঠাখালীতে পাঁচটি, সুন্দরবন ইউনিয়নে দুটি এবং চিলায় ছয়টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর খড় দিয়ে অবয়ব তৈরি করে তার ওপর এঁটেল মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। মাটি শুকানোর পর প্রতিমায় সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হবে।বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও রোদ ওঠায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন শিল্পীরা।
একজন প্রতিমাশিল্পী জানান, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে। প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। এতে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।
এদিকে মৃৎশিল্পীদের পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোও মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। দুর্গোৎসবকে ঘিরে মোংলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মোংলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোপাল কৃষ্ণ (কালু) বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করেন তিনি।
আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে।