রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজের আলোচিত প্রদর্শক (সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা) মোছা. আলোয়া খাতুন হীরার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কলেজের যেকোনো প্রশাসনিক ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট কমিটির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কলেজ ও মাউশি সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল দাওকান্দি সরকারি কলেজে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে প্রদর্শক আলোয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই ঘটনার সঠিক কারণ ও সত্যতা অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের তথ্য-উপাত্ত ও প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে সম্প্রতি তাঁর এই সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা প্রশাসন।
ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় বরখাস্ত: উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল দাওকান্দি সরকারি কলেজের প্রদর্শক আলোয়া খাতুন হীরার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকা ও শিক্ষা মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ঘটনাটি গভীর তদন্তের আওতায় আনা হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আর্থিক ও প্রশাসনিক কমিটিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল: সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের অভ্যন্তরীণ কোনো প্রশাসনিক ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট কমিটির কার্যক্রমে তিনি অংশ নিতে পারবেন না বলে দাপ্তরিক আদেশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় সবাই:
এ বিষয়ে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রাথমিক জটিলতা কাটিয়ে আলোয়া খাতুন হীরার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট মূল বিষয়গুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো প্রক্রিয়াধীন। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আসার পর সেই অনুযায়ী পরবর্তী স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারের এই খবর প্রকাশের পর দাওকান্দি সরকারি কলেজ-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং শিক্ষা প্রশাসনের পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাখছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল।