দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দলগুলোর অবস্থান নিয়ে এক অত্যন্ত বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল ও বক্তব্যকে একই কাতারে এনে দাবি করেছেন, বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে এই দুই দলের মাঠপর্যায়ের কর্মকৌশল হুবহু এক। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নতুন নাম ‘আওয়ামী জামায়াত লীগ’ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রাশেদ খান এই বিস্ফোরক দাবি তোলেন।
ফেসবুক পোস্টের মূল বক্তব্য: রাশেদ খান তার পোস্টে লেখেন, “আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ আর জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজের দিকে তাকালে দেখি বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে একই রকম বক্তব্য। ছাত্রলীগ আর শিবিরেরও তাই। আর এ জন্যই বলি, আওয়ামী লীগের আর রাজনীতির প্রয়োজন নেই। সব জামায়াত এখন আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে! থুক্কু! আওয়ামী লীগের চরিত্রে জামায়াত ফিরে এসেছে। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর নাম ‘আওয়ামী জামায়াত লীগ’ হিসেবেও ডাকা যায়।” তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা এখন শেষ এবং সেই শূন্যস্থান দারুণভাবে জামায়াতে ইসলামী দখল করে নিয়েছে।
১৯৯৬ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ ও যৌথ প্রতিরোধের ডাক: ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জামায়াত আরেকটি অনিবার্য গণঅভ্যুত্থানের জন্য ১৯৯৬ সালের মতো প্রস্তুতি নিতে বলেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একসঙ্গে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল। তার আশঙ্কা, খুব শীঘ্রই ‘আওয়ামী জামায়াত লীগ’ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে। তাই তিনি বাংলাদেশপন্থি সকল জনগণকে ‘আওয়ামী জামায়াত লীগ’-এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের থ্রেট শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বরং সবচেয়ে বেশি থ্রেট আওয়ামী জামায়াত লীগ।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
রাশেদ খানের এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যকার আদর্শিক ও কৌশলগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে এই ‘আওয়ামী জামায়াত লীগ’ তত্ত্ব নতুন এক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল।