বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রিয় দলের জয়ে সমর্থকেরা যেমন আনন্দে মেতে উঠছেন, তেমনি হার বা ড্রতে হতাশও হচ্ছেন। বিশ্বকাপ এলে ফুটবলার, দল কিংবা আকর্ষণীয় ভেন্যু নিয়ে আলোচনার কমতি থাকে না। তবে সেই তুলনায় আড়ালেই থেকে যান মাঠের আসল পরিচালক অর্থাৎ রেফারিরা। অথচ সেকেন্ডের ভগ্নাংশে নেওয়া তাদের একটি সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে বিশ্বকাপের গতিপথ!
প্রচণ্ড মানসিক চাপের মুখেও যারা এত বড় টুর্নামেন্ট নিখুঁতভাবে পরিচালনা করেন, তারা আসলে কত টাকা আয় করেন? ফিফা এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও স্প্যানিশ ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রেফারিদের আয়ের এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
কাতার বিশ্বকাপের হিসাব: স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষ পর্যায়ের একেকজন রেফারি চুক্তিভিত্তিক এককালীন ৭০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮৬ লাখ টাকা।
ম্যাচ প্রতি আলাদা বোনাস: শুধু এককালীন অর্থই নয়, কাতার বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারিরা আলাদা ম্যাচ ফি পেয়েছিলেন। ম্যাচের গুরুত্ব ও পর্যায়ভেদে এই ফি ছিল ৩ থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ চুক্তিভিত্তিক ফিক্সড বেতনের বাইরেও একজন রেফারি ম্যাচ প্রতি আলাদাভাবে প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার থেকে ৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছিলেন। অন্যদিকে সহকারী রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের (ভিএআর) পারিশ্রমিক মূল রেফারিদের তুলনায় কিছুটা কম ছিল।
চলতি বিশ্বকাপে রেকর্ড পারিশ্রমিক: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিরর’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে রেফারিদের পারিশ্রমিক আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এবার ম্যাচ ফি বাদ দিলেও একজন রেফারি এককালীন ১ লাখ মার্কিন ডলার আয় করতে পারেন, যা বাংলাদেশি অর্থমূল্যে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকারও বেশি! এর সাথে ম্যাচ প্রতি মোটা অঙ্কের বোনাস বা ম্যাচ ফি তো থাকছেই।