পারিবারিক সম্পর্কের সকল পবিত্রতা ও মায়াকে নিমিষেই রক্তে ভাসিয়ে এক লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড় শালঘর এলাকা। সোমবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই এক রক্তহিম করা পৈশাচিক তাণ্ডবে ঝরে গেছে একই পরিবারের তিন নারীর প্রাণ। ঘুমন্ত বা স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশের মধ্যেই মা, ভাবি ও দুই বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
এই নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক, শোক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে ঘটনার পরপরই স্থানীয় সাহসী জনতা ঘাতক যুবক ইমনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে যে আর্তনাদ:
স্থানীয় ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালের দিকে হঠাৎ করেই ওই বাড়ি থেকে মর্মান্তিক চিৎকার ও কান্নার রোল ভেসে আসে। প্রতিবেশীরা প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি ঠিক ঘরের ভেতর কী ধরনের তাণ্ডব চলছে। তবে ঘরের দরজায় পা রাখতেই তাদের চোখ কপালে ওঠে—চারদিকে ছড়িয়ে আছে রক্ত, আর নিথর হয়ে পড়ে আছে একের পর এক দেহ। ঘাতকের এমন রক্তপিপাসু ও পৈশাচিক রূপ দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান উপস্থিত সবাই। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ভিড় জমায়।
পুলিশের তৎপরতা ও মর্মান্তিক বিবরণ:
খবর পাওয়া মাত্রই দেবিদ্বার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে মা পেয়ারা বেগম ও দুই বছর বয়সী ছোট্ট ভাতিজির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এছাড়া ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া ভাবি রাবেয়া বেগমকে দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। একই পরিবারের তিন নারীর এমন মৃত্যুতে চারদিকে শোকের মাতম চলছে।
খুনের নেপথ্যে কিসের রহস্য?
ঠিক কী কারণে নিজের জন্মদাত্রী মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের এভাবে জীবন কেড়ে নিল ইমন? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কোনো গভীর ক্ষোভ, অজানা কোনো বিরোধ কিংবা তীব্র মানসিক অস্থিরতার জেরে এই নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছে সে। ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে এখন মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা টিম।
নিহতদের মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক ইমন বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য দ্রুত জাতির সামনে উন্মোচন করা হবে।