কৈশোরে পা দেওয়া সন্তানদের নিয়ে আজকাল অধিকাংশ বাবা-মাকেই এক অদ্ভুত ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। সারা বছর বইয়ের পাতা এড়িয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল বা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকা এবং পরীক্ষা কাছে এলেই তীব্র মানসিক চাপ ও আতঙ্কে ভোগার প্রবণতা ঘরে ঘরে ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।
মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘প্রোক্রাস্টিনেশন-অ্যাংজাইটি লুপ’ (Procrastination-Anxiety Loop)। অর্থাৎ, কাজ ফেলে রাখা এবং তার থেকে তীব্র উদ্বেগ ও অপরাধবোধ তৈরি হওয়ার এক বিপজ্জনক চক্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বছর না পড়ে শেষ মুহূর্তে পাহাড়সম সিলেবাসের মুখোমুখি হলে কিশোর মনে তীব্র প্যানিক তৈরি হয়। এই সময় অনুতপ্ত সন্তানের প্রতি মা-বাবার কড়া তিরস্কার, তুলনা বা বকাঝকা তাদের মানসিক অবস্থানকে আরও কোণঠাসা করে ফেলে। ফলে অনেক সময় তারা অতিরিক্ত স্ট্রেস ও একাকীত্ব থেকে আত্মঘাতী বা হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে।
প্যারেন্টিংয়ে সাধারণ কিছু ভুল: ১. ডিজিটাল শৃঙ্খলার অভাব: শৈশব থেকে ডিভাইস ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ না করা।
২. একমুখী যোগাযোগ ও নম্বর সর্বস্ব মূল্যায়ন: কেবল পরীক্ষার ফল বা নম্বরের মাপকাঠিতে মূল্যায়ন করায় সন্তান ভয়ের কথা খোলামেলা প্রকাশের সুযোগ পায় না।
৩. টিনএজ মানসিক স্বাস্থ্যের অজ্ঞতা: হরমোনজনিত পরিবর্তন ও আবেগীয় ঢেউ না বুঝে কিশোর-কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো বিচারে বসা।
প্রকাস্টিনেশন ও মানসিক চাপ মুক্তির কৌশল:
মাইক্রো-হ্যাবিট (Micro-Habit): বিশাল পড়া বা কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পড়ালেখা সহজ করা।
পড়াশোনা ও স্ক্রিন টাইমের ভারসাম্য: স্ক্রিন টাইমকে পুরোপুরি বন্ধ না করে নির্দিষ্ট সময় পড়াশোনার পর বিরতির ব্যবস্থা করা।
চেষ্টার প্রশংসা করা: ফলের চেয়ে প্রতিদিনের চেষ্টার ইতিবাচক মূল্যায়ন করা।
খোলামেলা বন্ধুত্ব: বকাঝকা না করে ঠান্ডা মাথায় সন্তানের ভয়ের কারণ বোঝা ও আত্মসম্মানবোধ বাড়িয়ে তোলা।
(লেখক: মাইন্ড-ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের গবেষক)