কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফজর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা ও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষকের অধীনে দায়িত্ব পালন করতে অনাগ্রহ জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির পাঁচ সহকারী শিক্ষক।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বুড়িচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে অন্যত্র বদলি এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
আবেদনকারী পাঁচ শিক্ষক হলেন—অনামিকা রানী ভৌমিক, মাহমুদা আখতার, নুরুন্নাহার, কানিজ ফাতেমা ও মারজাহান আক্তার।
লিখিত আবেদনে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক, অশালীন ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব ঘটনায় বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের কথিত অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
এতে তারা চরম বিব্রত ও আতঙ্কিত হন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা এবং নিজেদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা দ্রুত অন্যত্র বদলির আবেদন করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সেখানে গিয়ে তাদের দেখতে পান এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এর আগেও ওই শিক্ষককে ঘিরে নারীঘটিত বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনা ছিল বলেও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন তা অস্বীকার করেছেন। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগকে সঠিক নয় বলে দাবি করেন। পরে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বুড়িচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ বলেন, বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।