পে-স্কেল কার স্বস্তি, কার বোঝা? ২৪ লাখের বেতন বৃদ্ধির বিপরীতে ১৮ কোটি মানুষের দায় নেবে কে?
রবিউল ইসলাম | দিঘলিয়া, খুলনা প্রতিনিধি | ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ কালান্তর নিউজ
পে-স্কেল এখনো পুরোপুরি মানুষের হাতে পৌঁছায়নি—এর মধ্যেই বাজার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। কোথাও ৫ টাকার পণ্য ১০ টাকা হওয়ার অভিযোগ, কোথাও জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে, কিন্তু সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব যদি বাজারে পড়ে, তাহলে দায় নেবে কে?
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রত্যাশার পর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ রয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় অংশই সরকারি চাকরির বাইরে। তাদের আয় কি একই হারে বাড়ছে?
এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রশ্ন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিজেই মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মূল্যস্ফীতির পেছনে জ্বালানি, আমদানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক কারণ রয়েছে।
তবে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় যখন বাড়বে, তখন সেই অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে—সেটিও জনগণের জানার অধিকার।
রাজস্ব বাড়বে কীভাবে?
বাজেটের অতিরিক্ত চাপ সামলানো হবে কীভাবে?
বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হবে কীভাবে?
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়লে তার আয় বাড়ে; কিন্তু একজন দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক কিংবা বেসরকারি নিম্নআয়ের কর্মীর আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না।
তাই পে-স্কেলকে শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির হিসাব হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে রাজস্বনীতি, মূল্যস্ফীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা।
আরেকটি বিষয়ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন—‘জনগণ সরকারের পতন চাইছে’ কিংবা ‘বিরোধী দল সরকারের পতন চাইছে’—এ ধরনের বক্তব্য সর্বজনীন সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য নির্ভরযোগ্য জরিপ বা তথ্য প্রয়োজন। নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এমন দাবি সংবাদে নিশ্চিত বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
তবে জনগণের ক্ষোভ, অসন্তোষ কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর সরকারের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত।
কারণ প্রশ্নটা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির বিরুদ্ধে নয়।
প্রশ্নটা হলো—
একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ, অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা—সরকার কীভাবে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করবে?
পে-স্কেল যদি হয় স্বস্তির জন্য, সেই স্বস্তির অর্থনৈতিক চাপ যেন সাধারণ মানুষের ঘাড়ে গিয়ে না পড়ে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় জনস্বার্থের প্রশ্ন।