মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পুরাতন সাতক্ষীরা সড়কের দিকে তাকালে এখন আর সড়ক মনে হয় না। মনে হয় দীর্ঘ এক জলাশয়। দৌলতপুর মহসিন মোড় থেকে আড়ংঘাটা বাইপাস হয়ে শাহপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি এখন খানাখন্দ, কাদা আর জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে একাকার।
সম্প্রতি কালান্তর নিউজের হাতে আসা একটি চবিতে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত ঢেকে যাওয়ায় কোথায় কতটা গভীর, তা বোঝার উপায় নেই। একটি মালবাহী ট্রাকসহ ইজিবাইক ও রিকশাগুলো ঝুঁকি নিয়ে পানি জমে থাকা গর্ত পার হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পথচারীদের চলাচলও হয়ে পড়েছে অত্যন্ত দুর্ভোগপূর্ণ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সড়কের বেহাল দশা আজকের নয়। ২০২৫ সালেও সড়কের উঁচু-নিচু গর্ত ও খানাখন্দ নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় চলতি বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
এমনকি ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুলনা গেজেটে প্রকাশিত একটি ছবি প্রতিবেদনেও দৌলতপুর মহসিন মোড় থেকে আড়ংঘাটা বাইপাস অংশের বড় বড় খানাখন্দের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা চলে এলেও এখনো এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এটি শুধু একটি আঞ্চলিক সড়ক নয়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
ফলে সড়কের এই দুরবস্থা শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নয়, জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই যদি একই স্থানে পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাহলে সড়কটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার হচ্ছে কোথায়? বারবার সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে না?
স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক বলেন, “ইট-বালু ফেলে আর কতদিন? আমাদের স্থায়ী সমাধান দরকার। পানির নিচে গর্ত বোঝা যায় না। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না, রোগী নিয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হয়।”
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ চললেও সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন, সড়কটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কে এবং এতদিনেও কেন দৃশ্যমান সমাধান হলো না?
সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।