কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কন্যাশিশুদের নিয়ে শুভেচ্ছা ও সচেতনতামূলক বার্তা প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু এসব প্রচারের বাইরে বাস্তব জীবনে অনেক মেয়েকেই এখনো বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
খুলনার বটিয়াঘাটার ১৪ বছর বয়সী শারমিনের জীবনের গল্প সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অল্প বয়সেই তার বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ও খরচ বাড়ার বিষয়টি বিয়ের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে শারমিনের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের শিক্ষা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দারিদ্র্য, সামাজিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা এবং মেয়েদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রে অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনা জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় ২১৭টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ৮০ শতাংশের সঙ্গে কন্যাশিশুরা জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পরিসংখ্যানগুলোর নির্দিষ্ট সময়সীমা, উৎস ও হিসাবের ভিত্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
শুধু বাল্যবিবাহ নয়, চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রেও মেয়েরা নানা বাধার সম্মুখীন হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যায় বাইরে থাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং অনলাইন যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারগুলোকে বাড়তি উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়ার বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাতে টিউশন শেষে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন থাকে। তাঁর অভিজ্ঞতা নারী ও পুরুষের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে বক্তব্যটি প্রকাশের আগে তাঁর অনুমতি ও উদ্ধৃতির যথার্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া, অর্থনৈতিক সংকট এবং পারিবারিক চাপের কারণে কিছু কন্যাশিশু অল্প বয়সেই শ্রমে যুক্ত হয়। খুলনার ইটভাটা ও চিংড়িঘেরসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের শ্রমে যুক্ত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার এবং অনলাইন হয়রানিও কিশোরীদের জন্য উদ্বেগের কারণ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও প্রযুক্তি সেবাদাতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
একটি কন্যাশিশুর জন্ম কোনো পরিবারের বোঝা নয়। যথাযথ শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ ও সমান সুযোগ পেলে মেয়েরাও চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করতে শুধু দিবস পালন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পরিবারে ছেলে ও মেয়ের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।
কন্যাশিশুর স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া মানে একটি পরিবারের পাশাপাশি সমাজের ভবিষ্যৎকেও এগিয়ে নেওয়া।
কালান্তর নিউজের আহ্বান: আপনার এলাকায় কি এমন কোনো কন্যাশিশু আছে, যে নানা বাধা পেরিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে? তার গল্প আমাদের জানান। আমরা তুলে ধরতে চাই তার সংগ্রাম, সাহস ও সাফল্যের কথা।