যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার (Elsevier) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর (World’s Top 2% Scientists) তালিকায় স্থান পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ জন শিক্ষক ও গবেষক।
এই অর্জনের মাধ্যমে দেশের বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবি প্রথম এবং দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
গবেষকদের সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্সসহ বিভিন্ন একাডেমিক সূচক বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাপী এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার যবিপ্রবির সাফল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯ জন গবেষক এই তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ৩ জন, ২০২২ সালে ৩ জন এবং ২০২১ সালে ৪ জন গবেষক তালিকায় স্থান অর্জন করেন। ২০২৬ সালে ১১ জন গবেষকের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরছে।
তালিকায় স্থান পাওয়া যবিপ্রবির ১১ গবেষক হলেন—
১. আমিনুল ইসলাম (Energy)
২. মো. সাইফুল ইসলাম (Nanoscience & Nanotechnology)
৩. এম. জেড. এইচ. খান (Analytical Chemistry)
৪. ইমরান খান (Energy)
৫. মো. মশিউর রহমান (Environmental Sciences)
৬. এম. আর. সাইবুর (Environmental Sciences)
৭. মো. বিপ্লব হোসেন (Optoelectronics & Photonics)
৮. তরিকুল ইসলাম (Polymers)
৯. পার্থ কুমার বিশ্বাস (Medicinal & Biomolecular Chemistry)
১০. মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ (Applied Physics)
১১. মো. আমজাদ হোসেন (Optoelectronics & Photonics)।
গবেষণায় আর্থিক সহায়তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, “এই গৌরবময় অর্জন যবিপ্রবি পরিবারের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। নতুন প্রশাসন হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে গবেষণার এই উন্নয়ন ধারা ধরে রাখা। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে যেন অর্থ বরাদ্দের সুষম ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।”
গবেষক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “গবেষণায় এই ধারাবাহিক সাফল্য সত্যিই আনন্দের। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রশাসন থেকে সব ধরনের সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়া হবে। এখন থেকে রিসার্চ সেল থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় লেভেলেই প্রতিটি বিভাগে গবেষণা প্রকল্পে ফান্ডিং করা হবে, যেন শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের পেপার প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং ও সুনাম আরও এগিয়ে নিতে পারে।”
আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতিতে যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকদের অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন।