কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে বাঁশ দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতার তিন আসামি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার আমলি আদালত-৬-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির আদালতে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া হয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) এবং মো. কামরুল হাসান। তবে অপর আসামি মো. সিয়াম (১৯) কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি; তার রিমান্ড চেয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।
যেভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড:
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ি সালমানপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওইদিন বিকাল ৩টা ১২ মিনিটে অভিযুক্ত তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ নামক নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানায়, অপ্রতিমের আইফোন মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা ছিল তাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মোবাইলটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয় এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে অপ্রতিমের মোবাইলটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের ওই নির্জন এলাকা থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।