যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী— নামটি এখন দেশজুড়ে ‘ফুলের রাজধানী’ হিসেবে সুপরিচিত। ভোরের আলো ফুটতেই কুয়াশা ভেদ করে শত শত কৃষক সাইকেল ও ভ্যানে করে লাল টকটকে তাজা গোলাপ নিয়ে হাজির হন যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজারে।
যশোর শহর থেকে প্রায় ১৮-১৯ কিলোমিটার দূরের এই বাজারে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফুলের কেনাবেচা। গদখালী, পানিসারা, নাভারণসহ প্রায় ৯০টি গ্রামের ৬ হাজারেরও বেশি কৃষক প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করছেন। দেশের মোট ফুলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই জোগান দেয় এই অঞ্চল।
এখানে গোলাপের পাশাপাশি রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা ও চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা বিদেশি জাতের ফুল চাষ হয়। ১৯৮২ সালে শের আলী সরদার নামের এক কৃষক মাত্র এক বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা দিয়ে এই অঞ্চলে প্রথম ফুল চাষের শুভসূচনা করেছিলেন। তাঁর সেই হাত ধরেই আজ গদখালীতে বার্ষিক কয়েকশত কোটি টাকার বিশাল ফুল বাণিজ্য গড়ে উঠেছে।
বর্তমানে মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে ও নির্বিঘ্ন কেনাবেচার লক্ষ্যে প্রশাসন বাজারটিকে নবনির্মিত ‘গদখালী ফুল বিপণন কেন্দ্রে’ স্থানান্তর করেছে। প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে ফুল সংগ্রহ করেন। আসন্ন বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসবকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গদখালীর ফুল চাষিরা।