খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ৬৩ নম্বর থুকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে বিদ্যালয়ের ১১৫ জন শিক্ষার্থী।
যেকোনো সময় পলেস্তারা খসে পড়া কিংবা ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনে ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের চিত্র উঠে আসে। বাইরে থেকে ভবনটি মোটামুটি ভালো মনে হলেও ভেতরে রয়েছে বড় বড় ফাটল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১১৫ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন।
ছয়টি শ্রেণিকক্ষবিশিষ্ট দুইতলা ভবনটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অর্ক কর্মকার বলে, “আমি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান ভালো। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে বসে প্রতিনিয়ত ভয় লাগে, কখন যে ভবন ভেঙে পড়ে!”
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সহকারী শিক্ষিকা রিতা রানী বলেন, থুকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে অনেক শিক্ষার্থী সরকারি উচ্চপদে চাকরি করছেন। বর্তমানে যারা এখানে পড়াশোনা করছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।