খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজারসংলগ্ন ঢাকি নদীর ভাঙনে মেইন ওয়াপদা সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পোল্ডার নম্বর ৩১-এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হরিমন্দিরসংলগ্ন এলাকায় রাতের বেলায় ঢাকি নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধের প্রায় ১০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এতে বটবুনিয়া বাজারসংলগ্ন বেড়িবাঁধের বিস্তীর্ণ অংশ হুমকির মুখে পড়েছে।এ ছাড়া পানখালী ইউনিয়নের খোনা মোল্লাবাড়ির সামনের বেড়িবাঁধের প্রায় ১০ মিটার অংশও ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকায় দ্রুত মেরামত করা না হলে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভাঙনের কারণে বটবুনিয়া, নিশানখালী, উত্তর কামিনীবাসিয়া ও আড়াখালীসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা ভেঙে গেলে বাজার, হাটঘাট ও হরিমন্দির এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
পাশাপাশি আমন ধানের খেত, মাছের ঘের ও পুকুর এবং বসতবাড়ি প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও কয়েক দফা বেড়িবাঁধ ভেঙে কৃষকদের রোপা আমনের খেত ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।
তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী জালাল উদ্দিন বলেন, বটবুনিয়া বাজারসংলগ্ন ওয়াপদা সড়ক যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, পোল্ডার নম্বর ৩১-এর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মেরামতের কাজ চলছে। পানি কমে গেলে বটবুনিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ পুনরুদ্ধারে জনবল ও যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হবে।
এদিকে, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে মাটির সংকট ও সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকায় কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিবছরই একই ধরনের ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অস্থায়ী মেরামতের পাশাপাশি জিও ব্যাগের ব্যবহার, নদীশাসন এবং স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণের কাজ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।