গাজীপুরের আশুলিয়ার জিরানীর মুসলিমটেক এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নির্মাণকাজে বাধা, নির্মাণসামগ্রী নষ্ট, মারধর এবং এক প্রবাসীর তিনটি দোকানঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শওকত, নাহিদ মোল্লা ও আলমগীরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রবাসী মাসুম পারভেজের মা রাহেলা বেগম আদালতে মামলা করেছেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাঁরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।
গত রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি দোকানের মধ্যে ‘নানা ভাই টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক’ নামের দোকানটি খোলা রয়েছে। বাকি দুটি দোকান তালাবদ্ধ। দোকানদার সোহেল রানা জানান, তিনি দোকানভাড়া শওকতকে দেন।
দোকানগুলোর পেছনে নির্মাণকাজের জন্য আনা ইট, বালু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ক্রয়সূত্রে সম্পত্তির মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনটি দোকানঘর থেকে ভাড়া পেয়ে আসছিলেন প্রবাসী মাসুম পারভেজ। পরে দোকানগুলোর পেছনে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তাঁর পরিবার। এ জন্য সেখানে ইট, বালু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী আনা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল শওকত, নাহিদ মোল্লা ও আলমগীর ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় রাহেলা বেগম প্রতিবাদ করলে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি টাকা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ইট, বালু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ক্ষতি করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভাড়াটিয়াদের হুমকি দিয়ে তিনটি দোকানঘরে তালা লাগিয়ে দখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল রাহেলা বেগম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে গাজীপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে কাশিমপুর থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে ২৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর আসামিরা নিম্ন আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।
রাহেলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে আমাকে অনবরত ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখনো দখল হয়ে যাওয়া দোকানঘরগুলো ফেরত পাইনি।
নির্মাণকাজের জন্য আনা ইট, বালু ও সিমেন্ট নষ্ট হচ্ছে। তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই সম্পত্তি কিনেছি। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে চরম কষ্টে পড়েছি।”
তিনি দোকানঘরগুলো ফিরে পাওয়া, নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শওকতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার অনুরোধ জানান। তবে ফোনে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি।
প্রতিবেদকের নোট: চাঁদা দাবি, মারধর, নির্মাণকাজে বাধা ও দোকানঘর দখলের বিষয়গুলো মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।