সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, প্রায় সাত মাস আগে প্রাইভেট পড়ানোর সময় জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে শিশুটি প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে তার পরিবার
অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলম (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের সামছুর সরদারের ছেলে। তিনি গুমানতলী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া গ্রামে। লেখাপড়ার জন্য সে শ্যামনগরের গুমানতলী গ্রামে তার নানা জিয়াদ আলী গাজীর বাড়িতে থাকত। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত শিশুটি।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। এতে সে অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেন।
এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিশুটির ভিডিও ধারণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করেছে পরিবার। পরিবারের দাবি, কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শ্যামনগর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান শিশুটির স্বজনেরা। এ সময় শিশুটি আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলমের পাশাপাশি গুমানতলী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবু হাসান (১৪), শাজাহান সরদারের ছেলে এবং হযরত (১৭), হানিফ সরদারের ছেলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভিডিও ধারণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে শিশুটির গর্ভাবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকের প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। তারা হাসপাতাল থেকে ফিরলে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”