পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার সৈয়দপুর গ্রামে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলা, স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি একটি বাড়ির বাইরে রাখা পাটখড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ অক্টোবর জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে কদু সরদার ও শামসুর সরদারের পরিবারের সঙ্গে দুলাল ও হাশেমের পরিবারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে দুলাল, হাশেম, কাশেম, মান্না ও রফিক আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁদের বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটপাট করা হয়।
ভুক্তভোগী দুলাল অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দপুর গ্রামের মাদু ব্যাপারীর ছেলে ইউসুব মাস্টারের নির্দেশে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই রফিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও দাবি করেন দুলাল।
এদিকে গত ১০ অক্টোবর রাতে সৈয়দপুর গ্রামের কদু সরদার ও শামসুর সরদারের স্বজনদের বাড়ির বাইরে রাখা পাটখড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজেদের গরু-ছাগল, পেঁয়াজ, ধানসহ বিভিন্ন সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরে পাটখড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, আগুন দেওয়ার ঘটনা তাঁকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।
সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।