সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলের সন্ধান মেলেনি ১৩ দিনেও। সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলা চালিয়ে তাঁদের অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে।দীর্ঘ সময় পার হলেও স্বজনদের ফিরে না পাওয়ায় গভীর উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে সুন্দরবনের নারকেলবাড়িয়া, আমবাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙা এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এসব ঘটনায় কুখ্যাত মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পাশাপাশি দস্যুরা একটি মাছ ধরার ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এদিকে, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। সুন্দরবনের নৌপথে তল্লাশির পাশাপাশি দস্যুদের সম্ভাব্য আস্তানা শনাক্ত করতে ড্রোনের সাহায্যে আকাশপথেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময়েও জেলেদের অবস্থান শনাক্ত বা তাঁদের উদ্ধার করতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার সরকারি দাবি সত্ত্বেও এ ধরনের অপহরণের ঘটনায় জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মহাজন জানান, অপহৃত জেলেদের মুক্ত করতে দস্যু বাহিনীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ ও মুক্তিপণের দর-কষাকষি চলছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে একা না থেকে দলবদ্ধভাবে এবং বন অফিসের কাছাকাছি অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।