‘একটা ডিম ১৫ টাকা’—এই চার শব্দই এখন কোটি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ডিম ছিল সাধারণ মানুষের প্রোটিনের একমাত্র সাশ্রয়ী ভরসা, বাজারে এখন সেই ডিমের হালি বিকোচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। শুধু ডিম নয়—চাল, তেল, আটা, চিনি, মাছ, মাংস, মুরগি ও সবজিসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
নিত্যপণ্যের বাজারের এই লাগামহীন উর্ধগতিতে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে। বাজারে দৈনন্দিন খরচ হু-হু করে বাড়লেও শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আয় সেই অনুপাতে মোটেই বাড়েনি। ফলে সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে খাবার কাটছাঁট করতে হচ্ছে, কমছে সঞ্চয়, আর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ব্যক্তিগত ঋণ ও মানসিক দুশ্চিন্তা।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা
বাজার বিশ্লেষক ও ভুক্তভোগীদের মতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আমদানি পণ্যের চড়া দাম, বাজার ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা এবং অসাধু সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ জোরালোভাবে উঠে আসছে। তবে এসবের মাঝেও সাধারণ মানুষের মনে কিছু মৌলিক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—
নিত্যপণ্যের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ কমানো যায় না?
বাজারে কার্যকর অভিযানের মাধ্যমে অসৎ সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয় কেন?
বড় বড় প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও কর ফাঁকি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ কোথায়?
একদিকে যখন মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের গল্প সামনে আসে, অন্যদিকে তখন একজন সাধারণ মা বা বাবা ১৫ টাকার একটি ডিম কিভাবে সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেবেন—সেই নির্মম হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন।
উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি কোনটা?
সাধারণ মানুষের মতে, উন্নয়নের বড় মাপকাঠি কেবল ফিতা কাটা প্রকল্প বা বড় বড় ঘোষণা হতে পারে না; বরং সাধারণ মানুষের থালায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই হওয়া উচিত উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য।
সরকারের কাছে সাধারণ জনগণের দাবি একদম স্পষ্ট—
১. দ্রুত নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
২. সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৩. খাদ্যদ্রব্যে করের প্রভাব কমিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
জনগণের পকেট খালি রেখে এবং পারিবারিক ব্যয় ও আয়ের ভারসাম্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়নই যে সাধারণ মানুষের কাছে পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না—দিঘলিয়াসহ খুলনা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কণ্ঠে এখন সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।