নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে শরীফপুর ইউনিয়নের নির্মাণাধীন হাছানহাট সংযোগ সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে বদলি করা হয়েছে এবং দুই কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল কৌশিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়িত্বে অবহেলার কারণে উপজেলা প্রকৌশলীকে ঢাকা থেকে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে কেন প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করা হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের আওতায় ৪৯.৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে মাঠপর্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার মো. ফরহাদ পাটোয়ারী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একলাশপুর, শরীফপুর ও নেয়াজপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের এই সেতুতে শুরু থেকেই নিম্নমানের সিমেন্ট, বালু ও রড ব্যবহার করা হচ্ছিল। সম্প্রতি পায়ের আঘাতেই ফুটপাতের একটি স্ল্যাব ভেঙে পড়লে ভেতরে রডের বদলে জিআই তার স্পষ্ট দেখা যায়। এছাড়া হাত দিয়ে টান দিলেই রেলিংয়ের সিমেন্ট ও পাথর খসে পড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার ফরহাদ পাটোয়ারী দাবি করেন, এটি চলমান কাজ এবং ভুলবশত দুটি স্ল্যাবে রডের বদলে জিআই তার ব্যবহৃত হয়েছিল, যা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভেঙে পুনরায় নতুন করে করা হচ্ছে।
এদিকে নোয়াখালী এলজিইডির পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নকশা অনুযায়ী ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাজের শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না।