ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সদ্য বরখাস্ত হওয়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের অবৈধ ওষুধ ও কেমিক্যাল কারখানায় ফের অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের ১ নম্বর সড়কের ১/২৮ নম্বর একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় এই অভিযান চালানো হয়। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি)।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় বায়েজিদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের একটি অবৈধ ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সেই সূত্রে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোয়ালচামট ১ নম্বর সড়কের অন্য একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।
দ্বিতীয় এ অভিযানে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত অনিরাপদ কেমিক্যাল, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ও অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের কাঁচামাল বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব রহমান আকাশ জানান, কারখানার সার্বিক দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ভবনে আর যেন কোনো অবৈধ ল্যাবরেটরি বা কাঁচামাল মজুদ না করা হয়, সে বিষয়ে ভবন মালিককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ও ভেজাল কবিরাজি ওষুধ প্রস্তুত করে আসছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে বায়েজিদ হোসেন। অবৈধ কারখানার তথ্য ও সাজা নিশ্চিত হওয়ার পরই এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখা থেকে তাকে দলীয় পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।